Posted in Uncategorized

Feline Good Book: The Travelling Cat Chronicles|| Hiro Arikawa

Are you a cat or dog person?

I’m a cat person. It’s weird, me- who’s scared of animals (be it be bird type, bug type, or three legs/ four legs!), but not cats! I can hug, kiss, and cuddle cats and they can lick me as much as they want to! I’m the type who sees a cat, & shouts – ”Hiiiiiii! Come ‘ere, nekooo chan!”

Thanks to Boro Mama, we have our Miki (everyone else calls him Ginger) with us and this mischievous fluff ball is everything to us
Miki was so not up for the pose! He loves biting the book edges! It took me forever to box this naive photo!

Now, let’s start with this gem! I’m obsessed with books about cats. And particularly this one is one of my faves! This delightful yet heartbreaking book is a MUST read for every cat lover! Noh, not really, it matters not whether you love cat- one MUST read this Purr-fect piece, no matter what.

Let me warn you, it’s a tearjerker! As it’s not only a story, it’s like the schliffing sounds of those suppressed pages that are ready to burst out altogether at any moment from the depth of your memory.

Here, we follow Nana the cat & his owner Satoru Miyawaki. Nana- a stray cat was found by Satoru and they created an amazing bond together, like every other pet lover. But later on, they had to embark on their journey on a silver van moving forward to somewhere where Satoru could part away from Nana. Nana got puzzled and so did I. To Nana, Satoru is his home and he’s the only one for him.

Urgh! When I read this part for the first time, Miki was not with us at that time. So, I hugged my stuffed Pikachu and cried my heart out.

As the title words it loud, the anecdotal tale delineated the peregrination of Nana and Satoru with memories flashes from past to present. We met Satoru’s friends and each one had a beautiful story. Written in simplistic, easygoing language which at times seemed so trivial yet those thimbleful parts would hit you hard later. Hiro San did a splendid job weaving the story that way and connecting all threads together.

Narrated from Nana’s pov, this gripping story is incredible in its own way. It doesn’t have grandiose characters. With just a tinch of characters, it becomes a profound tale! The beautiful places and with these people, you will feel like you are there – looking through the Pensieve!

Nana, not only a witty, sassy, majestic cat but is also quite tongue-in-cheek! And this side of him will make you feel mellow! Look at our cheeky Nana when Satoru first named him,

“Listen cat, I was wondering if you would like to become my cat?” Saturo asks. As for names..”How about Nana?” “What?” Your tail “hooks in the opposite direction from Hachi’s and from the top it looks like nana, the number seven.” “Now wait just a second. Isn’t Nana a girl’s name. I’m a full fledged, hot blooded male..” “You’re okay with that, aren’t you, Nana?” “Do you like the name?” Nope! But well. Asking that while stroking my chin, is playing foul. I purred in spite of myself. “So you like it. Great” I told you already, I do not.”

(both of them reminded me of Ash & Pikachu for some reason! )

You’ll fell in love with Nana- his curiosity, his attitude towards humans is quite censorious- that is not off-putting!

“Hey, you idiotic couple,” he “says” to two young people watching him eat, “how would you like it if somebody pointed at you when you’re eating?”

Haha! And Satoru- he’s such an amazing person. With the story unfolding slowly, we came to know his situation and the reason behind searching for Nana’s new home. In the end, late or not, Nana chooses Satoru-

”Forever and ever I am your cat, Satoru. ”

This book is everything! It’s a tale about love, friendship, loss, compassion, sacrifice, and mostly, the way we feel for our beloved pets and also the way they feel about us. After reading it, you want to hug and cuddle your precious babies.

I’d suggest you take your time reading this wonderful story. And start your journey with Nana and Satoru. Despite the heaviness of its end, this book will heal your heart, it’s full of warmth and Paw-sitiveness! As Nana says,


Such a beautiful, insightful, passionate reading. READ THIS! 

Posted in Uncategorized

Fanfiction: A World for Intrepid Readers!

Do you love fanfics? I find them engrossing! Because there’s never enough canon in any fandom because we don’t want to let go!

” The whole point of fanfiction is that you get to play inside somebody else’s universe. Rewrite the rules, or bend them. The story doesn’t have to end. You cannot stay in this world, this world you love, as long as you want, as long as you keep thinking of new stories.”

I remember seeing in one tweet that someone is against the fanfic world and think of it as an insult to the author! I am not on the same floor as them. As I said before, reading books can give you ideas and let you think, let you criticize, let you work on your creativity – yes, they might be based on the author’s creation, but isn’t that one of the reasons that the authors were aiming for? You may like/dislike a story/fanfic, but don’t make the domain -an insult to the author!

To me, authors are fans too! For instance, The Divine Comedy, Enola Holmes, The Songs of Achilles’ and all the retellings!

Just imagine, Harry Potter growing up with a good-hearted Petunia and not-the-dreadful-Dursleys, but with a scientist uncle, and trying to find rationalities in magic- a complete paradox! A Harry Potter who’s not Harry, but in an AU, it might happen!

PS: have you read this fanfic, written by Yudhkowsky? So far, it’s intriguing! Let me know!

Anyway, I love fanfics, altho I’m really the worst when it comes to writing 😅

Happy reading and once more, Happy Birthday, Harry! 🍻


Posted in Uncategorized

একজন হুমায়ূন আহমেদ: আমি এবং আমরা

আমার ছুটি মানেই নানুমনির বাসায় গমন! বেশ দুরুন্তও ছিলাম! আব্বু ডিফেন্সে (বিএন) থাকার কারণে, বিএন এর বাসে চড়ার সুযোগ পেতাম। বাস দেওয়া হতো অফিসে কর্মরত দূর-দূরান্তে থাকা চাকুরিজীবী কর্মচারীদের জন্য৷ সেই ছ’বছর থেকে, আমি এবং আমার বিশ্বস্ত ব্যাগ- আমরা এ দু’জন বাসে উঠে পড়তাম- গন্তব্য ফিরোজশাহ কলোনি, নানুমনির বাসা।

বাসের আরোহী আংকেলরাও কিন্তু আমাকে চিনতো, বিশেষ করে আব্বুর বেস্ট ফেলো, জসীম আংকেল! আমি যখনি বাসে উঠতাম, দেখতাম আংকেল তাঁর বড়ো মেয়ের জন্য বই নিয়ে যাচ্ছেন -অফিসের এর লাইব্রেরি থেকে।
তো একদিন আমার নজরে পড়ে কভারলেস একটি বই! আমি উসখুশ করতে লাগলাম বইয়ের নাম দেখার জন্য! আংকেল বললেন, পড়বে না কি? অনুমতি পেয়ে দেরি করলাম না আর!
প্রথম কয়েকটি পেইজ নেই। তারপরও বেশিক্ষণ লাগলো না! আমি শেষ করে কেমন এক ঘোরের মাঝে ছিলাম।

কতই বা আমার বয়স? সাত, সাড়ে সাত? আমার ছোট্ট ব্রেইনে মহাপুরুষ কিংবা সত্য-মিথ্যা, ইন্টিউইশন -এসব তো কিছু ঢুকলো না, কিন্তু একটা ছেলে যে তার মাকে খুব মিস করে, সে এটা ওটা করে, কিন্তু মা’র ওই বিষাদভরা চোখ ভুলতে পারে না। আমার খুব মন খারাপ হয়ে গেলো।

নানুমনির বাসা গিয়ে অবশ্য সব ভুলে গেলাম। ছোটমামা ক্লাস নাইনে পড়তেন সে সময়, মামার শেলফে বই থেকে ‘আজাইরা’ (কার্ড, ছেলেদের পারফিউম এসব 🙄) জিনিস থাকতো বেশি! কিন্তু সেবার আমি পেলাম এক নূতন লেখকের বই। ‘তোমাদের এই নগরে’ এবং ‘অনীষ’- এই বই দুটি! প্রথম বইটি পড়ে আমার বুঝতে বাকি রইলো না, বাসে পড়া বই আর এই বইয়ের লেখক একজন-ই, হুমায়ূন আহমেদ!

সে থেকে শুরু তাঁর সাথে পথচলা! তাঁর বইগুলোতে কেমন যেন জাদু ছিলো, মাদকতা ছিলো! তাঁর বই পড়েই জীবনানন্দ কিংবা রবার্ট ফ্রস্ট এর প্রতি কৌতূহল জেগেছে , আমি মুখিয়ে থাকতাম তাঁর বই সংগ্রহ এবং পড়ার জন্য।

আমার মনে আছে, ক্লাস ফাইভে ‘প্রিয় শিক্ষক’ রচনায় আমি কাভারলেস, আধা থেকে পড়া মন খারাপ করা হিমুর সেই বই থেকে মফিজ স্যারের বিখ্যাত চড় এবং ময়ূরাক্ষীর কথা লিখেছিলাম, বাংলা ম্যাম খুশিতে ২০/২০ দিয়ে দিয়েছিলেন!

আমি অতি সাধারণ একজন পাঠক, তাঁর বইগুলো পড়ে সবসময় কেমন যেনো নিঃসঙ্গতাবোধ হতো- আনন্দ ছিলো, তারপরও কীসের যেনো অভাব। লেখকের জীবনের-ই প্রতিচ্ছায়া কি? আনন্দ-বেদনার মাঝে কোনো না কোনো দর্শন থাকবেই তাঁর লেখনীতে।

শেষদিকের বইগুলো মেইবি তেমন আঁচড় কাটতে পারেনি পাঠকমনে কিংবা অনেকে বলবেন এগুলো সবাই লিখতে পারে, একই ধরনের! তাই বলে বাংলা সাহিত্যে তাঁর অবদান কীভাবে অস্বীকার করবে?

নিঃসন্দেহে তিনি আমাদের সেই লেখক যিনি বই পড়তে বড়ো ছোট সবাইকে এক বিন্দুতে জড়ো করেছিলেন! বইমেলায় এখনো তাঁর বই সংগ্রহের জন্য লম্বা লাইন ধরে!

কী এক সরলতা ছিলো তাঁর লেখনীতে! আমাদের কথাগুলো সহজেই তুলে ধরতেন বলেই তিনি আমাদের কাছে এখনো অতুলনীয়! যে কথাগুলো, যে বিষয়গুলো আমি তুমি বলতে দ্বিধা করি, সেটি-ই তিনি অকপটে লিখে গিয়েছেন।
তাঁর রচিত বইগুলোই বলে দিবে কতোটা বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী ছিলেন তিনি।
তাঁর অকস্মাৎ বিদায় এখনো মন মেনে নিতে চায় না! ন’বছর কীভাবে চলে গেলো?

প্রিয় লেখক,
আপনি কি এখন ভালো আছেন ওপারে, নাকি এখনো নিঃসঙ্গতাকে সঙ্গ দিয়ে যাচ্ছেন?
আপনি কি জানেন, ময়ূরাক্ষীর তীরে এখনো অজস্র বিষাদভরা নয়ন ছলছল চোখে অপেক্ষায় আছে আপনার? জ্যোৎস্নার সৌন্দর্যে, কদম ফুলের সাথে বৃষ্টি দিনে, লালনের গানের আসরে, কবিতার পাঠে আপনি বেঁচে থাকুন। আপনাকে অনেক ভালোবাসি। ভালো থাকুন ওপারে। ❤️

Posted in Recommendation

Middle-Grade Books Recommendation~


Middle grade- meaning books intended for kiddos between 8 to 12 y/o! But age is just a number, you know! I am an adult and I’ll choose these books in the blink of my eyes!

Some of these I’ve read when I was a middle grader/ or just a kid who started her reading journey! And I’ve special feelings for them! These books helped me to become who I am right now! As an adult, as a book lover, as a teacher- I want to recommend these books for the young ones, for my adorable students!

As I have so many books to suggest, thus, I’m making it as a series! Today’s the part one-

প্রথম অংশে আমি আজ সাজেস্ট করবো, আমার পড়া বাংলায় লিখিত কিংবা অনূদিত কিংবা বাংলা লেখকদের লিখা তোমাদের জন্য বই!  তো শুরু করা যাক-

. গুপীগাইন বাঘাবাইন || উপেন্দ্রকিশোর রায়

“আহা কী আনন্দ আকাশে বাতাসে”♪♪

সুরখানা চেনা লাগছে? যদি লেগে থাকে তাহলে যেনে রেখো- কালজয়ী এক গানের কলি তোমার জানা আছে! আর না জানা থাকলে, শুনেই দেখো না, ইউটিউবে খুঁজলেই পেয়ে যাবে!

♩  মিষ্টি এই গানটি বিখ্যাত এক মুভির- নাম হীরক রাজার দেশে! নামটিও কত্তো মধুর-তাই না! আজ কিন্তু আমি ছবি নিয়ে কিছু বলবো না, বলবো ছবিটির চরিত্রে আছেন- সেই গুপী এবং বাঘাদের নিয়ে! তারা কিন্তু বিখ্যাত এক বইএর চরিত্র! বইয়ের নাম তাদের নামেই- গুপীগাইন এবং বাঘা বাইন!

উপেন্দ্রকিশোর একদম শিশুদের জন্যই বইটি লিখেছেন! রূপকথার আদলে লিখা এই বইটি আমি বাচ্চাদের অবশ্যই পড়তে বলবো! এখানে একজন খুব বাজে গান গায়, আরেকজন এত্তো খারাপভাবে ঢোল বাজায়- কী বলবো! এই দুজনের দেখা হলো, এরপর তারা কত্তো কত্তো মজার কাণ্ড করলো!

বইটি কেন পড়বে? যেহেতু ক্লাসিকাল বই-  তাই, তখনকার সময়কার ভাষা কিংবা পরিবেশ কেমন ছিলো, তা জানতে পারবে।

গুপী এবং বাঘা কেমন করে জিরো থেকে হিরো হলো, কী করলো তারা শুন্ডি এবং  হল্লা রাজার দরবারে- তাদের অদ্ভুতুড়ে কাণ্ডকারখানা তোমাদের মুগ্ধ করবে এবং হাসাবেও!

২.  বাড়ি থেকে পালিয়ে || শিবরাম চক্রবর্তী

বাবাকে যমের মতোন ভয় পায় ১৪ বছরের কাঞ্চন! সে থাকে এক অজানা পাড়াগাঁয়ে! কিন্তু যেনো-তেনো ছেলে নয় সে- এক্কেবারে দুষ্টের রাজা! তার দুষ্টুমিতে সবাই অতিষ্ঠ!

একদিন বামুনের ছেলেকে এমন শায়েস্তা করলো – যে ঘটনা বাবার কান অব্দি পৌঁছে গেলো! এখন কী হবে- বাবার হাত থেকে কে বাঁচাবে? কাঞ্চন সাহেব করলেনটা কী, তিনি পালালেন – গ্রাম থেকে অনেক দূরে -কলকাতায়! আজব এই শহরে পালিয়ে যাওয়ার পর কাঞ্চনের অভিজ্ঞতার কাহিনি নিয়েই মজার এই গল্প!

যদিও এই বইটিকে আমি শিশু-সাহিত্য হিসেবে বিবেচনা না করে বরঞ্চ কিশোরসাহিত্য বলবো! তবুও যাঁরা বড় আছেন- তাঁরা পড়ে শোনাতে পারেন!৷ কেন পড়বে? দস্যি এক ছেলের রোমাঞ্চকর অভিযান – যে শহর তার সম্পূর্ণ অজানা,  সেখানে সবকিছুতেই তার বিস্ময়! তার কিছু প্রশ্ন এমন যে, ” যে শহরে এতো ধনী মানুষ,  এতো খাবার দোকান, সে শহরে মানুষকে কেন কুকুরের কাছ থেকে ডাস্টবিনের খাবার কেড়ে নিতে হবে?” একবার ভাবো- ছোট্ট এক বাচ্চা, তার ভাববার দৃষ্টিকোণ কতো গভীর!

কাঞ্চনের এই অনুসন্ধিৎসু মনোভাব তোমাদেরও আগ্রহী করে তুলবে আজনাকে জানতে, অচেনাকে চিনতে, তোমাকে শিখাবে ভাবতে!

৩. শঙ্কু সমগ্র || সত্যজিৎ রায়

ত্রিলোকেশ্বর শঙ্কু মহাশয় ছিলেন অতি মেধাবী ছাত্র, তাই মাত্র বিশ বছরেই কলেজের অধ্যাপক হয়ে গেলেন! তাঁর আরেকটি পরিচয় আছে- তিনি একজন বাঙালি বিজ্ঞানী! যে সেই রকমের নন-আবিস্কারক বৈজ্ঞানিক!  তার আবিষ্কারগুলো যেমন অদ্ভুত,  তাদের নামগুলোও অদ্ভুত! 

কেন পড়বে?  প্রথমেই বলে রাখি, পুরো শঙ্কু সমগ্র কিন্তু ডায়েরি আকারে লিখা! কী মজার ব্যাপার তাই না! ইংরেজিতে তোমরা যারা ডায়েরি অব আ উইম্পি কিড পড়েছো, তারা  কিছুটা হলেও আঁচ করতে পারবে, ডায়েরি আকারে লিখা কেমন হয়! তবে আমাদের প্রফেসর শঙ্কু কিন্তু উইম্পি কিড থেকে সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম! বিজ্ঞানী হলেও, তিনি মজার লোক! বিজ্ঞানের কচকচের ভিতর সীমাবদ্ধ থাকেন নি! ছিলেন সৎ, সাহসী, ভ্রমণ প্রিয়!

বইটি তোমার কল্পনার জগৎ কেবল আলোকিত- ই করবে না, তুমি প্রকৃতি এবং ভৌগোলিক অনেক রহস্যের কথাও জানতে পারবে- সাথে বিশ্ব ভ্রমণ তো হলোই! আর সত্যজিৎ রায়ের চমৎকার অনবদ্য স্কেচগুলো দেখে তুমি অভিভূত-ও হবে!

আফসোসের বিষয় লেখক সাহেব শঙ্কুর অভিযান শেষ করে যেতে পারেননি, তবে জীবনের অন্তিম মুহূর্ত পর্যন্ত তিনি শঙ্কুর কাহিনি কলমে এঁকে- লিখে গিয়েছেন।

৩. মনোজদের অদ্ভুত বাড়ি || শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

একটি ছবি- অদ্ভুত ছবি,  ছবিটি যার তাকে কেউ চিনে না, আবার সে পরিবারের কেউ না- তাহলে ছবিটা কার? ছবির পরিচয় খুঁজতে গিয়েই রহস্যের শুরু!

অদ্ভুতুড়ে সিরিজের প্রথম বই এবং কী কী নেই এখানে! বৈচিত্র্যতা,  রহস্য এবং হাসির ছোটাক! ছোটরা খুব মজা পাবে পড়ে! মনোজদের বাড়িতে থাকা লোকজন এবং তাদের অদ্ভুত সব কর্মকাণ্ড নিয়ে বইটি কিন্তু আমি এক বসাতেই পড়ে ফেলেছিলাম!  এবং সিরিজের পরবর্তী বইগুলোর জন্য মুখিয়ে ছিলাম!

৪. কাবুলিওয়ালা || রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

পৃথিবী এখন অনেক বদলে গিয়েছে! আমরা যখন ছোট ছিলাম,  তখন অনেকে ছোট্ট ঝুড়িতে বিক্রয় করতো- কটকটি, মিছরি কিংবা বাতাসা, অথবা কিসমিস,  শমপাপড়ি এমন খাবারগুলো -যেগুলোর অনেক কিছুই এখন আর কেউ বানায়ও না, পাওয়াও যায় না [শমপাপড়ি পাওয়া যায়]! তো বিখ্যাত, প্রিয় ডিজার্ট বিক্রেতা কে আমরা ডাকতাম কটকটি ওয়ালা! কটকটিওয়ালাদের নিজস্ব ডাক দেওয়ার ভঙ্গিমা থাকতো! তার সুর করে অদ্ভুত করে ডাকতো- অনেক সময় আমরা ভয় পেতাম, ভাবতাম কী আছে ওই ঝুড়ির ভিতর! তখন কিন্তু ছেলেধরা ছিলো-[ওই কিডন্যাপার যাদের বলে! আচ্ছা, ওদের মেয়েধরা বা শিশুধরা বলে কখনোই কেন ডাকা হয় না? মেয়েরাও তো কিডন্যাপ হতো! বুঝলাম না!!]

যা হোক, তেমনি কাবুল থেকে আসা ফল বিক্রেতা আমাদের কাবুলিওয়ালা! ছোট্ট মিনির উৎসুক মন ভাবে কাবুলিওয়ালা তার ঝুড়ির ভিতর নিশ্চয়ই পিচ্চি পিচ্চি বাচ্চাদের পুরে রেখেছে- তাই সে ভয় পেতো! কিন্তু আমাদের কাবুলিওয়ালা মিনির মাঝে দেখতে পেতো তার দেশ, কাবুলে ফেলে আসা তার ছোট্ট মেয়ের ছবি! খুব আদুরে এই বইটি নিয়ে কিন্তু অনেক মুভি আছে- চাইলেই দেখে ফেলতে পারো! আর পড়ে ফেলতে পারো বাবাদের অনুভূতি এবং আবেগ নিয়ে লিখা অসাধারণ এই বইটি।

৫. আম আঁটির ভেঁপু || বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

লেবু মামার সপ্তকাণ্ড || নাসির আলী

তখন ক্লাস ফোরে, ক্লাসের আমার বাংলা টেক্স বই এ একটি ছোট এক গল্প ছিলো – বই পড়া ভারী মজা”– ওখান থেকেই চিনেছি অপু ও দুর্গা কিংবা লেবু মামাকে!

কেন পড়বে? বাংলা ভাষায় যে কত্তো মিষ্টি –আম আঁটির ভেঁপু পড়েই বুঝতে পারবে! ভাইবোনের খুনসুটি,  তাদের এখানে সেখানে ঘুরতে যাওয়া, তাদের চড়ুইভাতি – তাদের শৈশব -তোমাদের আগেরদিনের, মানে তোমার বাবা মা-র শৈশব চিনিয়ে দিবে! এই বইটি কিন্তু বিখ্যাত এক বইয়ের অংশ বিশেষ- নাম, পথের পাঁচালী!  বড়ো হলে সেটিও পড়ে নিও।

কেন পড়বে লেবু মামা? লেবু মামা যেখানে- মজাও সেখানে!  লেবু মামার সাত মজার কাহিনি নিয়ে তার সপ্তকাণ্ড! পড়ো আর তুমি নিজেই বড়ো হলে হতে চাইবে লেবু মামা!

৬. একাত্তরের যীশু,  নুলিয়াছড়ির সোনার পাহাড় || শাহরিয়ার কবির

একাত্তরের যীশু’ ছোট ছোট কিছু গল্পের সংকলন!  একেকটা গল্প তোমাকে ভিন্ন ভিন্ন অনুভূতি দিবে! বিপ্লবী হতে শিখাবে তোমাদের! ভাবতে শিখাবে!  পড়েই দেখো- ভাববে -ইশ!  আগে কেন পড়িনি?

নুলিয়াছড়ির সোনার কাহিনি’ আবির, বাবু সিরিজের প্রথম বই! যারা গোয়েন্দা হতে চাও, কিংবা রহস্য ভালোবাসো- তাদের জন্য অবশ্য পঠনীয়! উফফ! যে বয়সে আমি ঘরে বসে তাদের কাহিনি পড়ে কাটিয়েছি- সে বয়সে আবির এবং বাবু কী অসাধ্য না করে এসেছে!

৭. ছুটি || রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

”মা,  এখন আমার ছুটি হয়েছে মা, এখন বাড়ি যাচ্ছি।

আহা, কী কাঁদাই না কেঁদেছিলাম! রবি ঠাকুরের অসাধারণ ছোট গল্পের মাঝে একটি!  এই বইটি তাদের জন্য যারা একটু একটু করে বড়ো হচ্ছো। কিছুদিন পর তোমরা জানতে পারবে বয়ঃসন্ধি সম্বন্ধে।  এ সময়ে তোমার শারীরিক এবং মানসিক পরিচর্যা যে কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা আবেগঘন ছোট এই গল্পটি পড়ে বুঝতে পারবে।

৮. তোত্তো-চান: জানালার ধারে ছোট্ট মেয়েটি|| তেৎসুকো কুরোয়ানাগি

অনূবাদক: চৈতী রহমান

কেমন মজা যদি ট্রেনের কামরা তোমার ক্লাসরুম হয়! ট্রেন চলছে আর এদিকে ক্লাস হচ্ছে! নেই গৎবাঁধা বই, সিলেবাস বরং তোমাকে শোনানো হবে আজ সারাদিন কী কী পড়ানো  হবে, এবং তুমিই বেছে নিবে তুমি কী পড়তে চাও! আচ্ছা, ভাবোতো এমন স্কুল- যেখানে কেবল গল্প করেই তুমি ভর্তি হতে পারবে, কোনো টেস্ট দিতে হবে না!

তুমি বলবে, যাহ, এমন স্কুল আছে না-কি!

হুম, আছে- তোমোয়ে গাকুয়েন! আর এই স্কুলে সদ্য ভর্তি হলো আমাদের তোত্তো-চান- যার, স্কুলের চার দেয়ালের চেয়ে জানালার ওপারে রাজ্যই বেশি ভালো লাগতো- হ্যাঁ, ‘ Taree Zaneen Paar’ এর ঈষানের মতোন।

মিষ্টি ছোট্ট মেয়ে তোত্তো-চান – যার মনোযোগ একদম ক্লাসে থাকে না- তাই আগের স্কুল  বেচারিকে দিলো তাড়িয়ে!  আর আমাদের আদুরে তোত্তো-চানকে শেষমেশ ভর্তি হলো মজার এই স্কুলে! সেখানে গিয়ে আমাদের প্রিয় তোত্তো-চান থেকে জানতে পারলাম আজব,  মজার এই স্কুল, সেখানকার অসাধারণ প্রধান শিক্ষক – সোসাকু কোবায়াশী, আর শেখার অন্যরকম পদ্ধতি!

শুধু ছোট্ট সোনামণিরা নয়, আমি বলবো প্রত্যেক আব্বু-আম্মু, প্রত্যেক শিক্ষক এবং দায়িত্বশীল বড়োদের, যারা শিক্ষা নিয়ে ভাবেন- তাঁদের  এই বইটি পড়তে!

শিশুর সহজাত বিষয়গুলো আমরা কীভাবে দেখছি? আমাদের দেখার এই দিকগুলো বাচ্চাদের কী পরিমাণ প্রভাবিত করে-তার চমৎকার নিদর্শন আছে এই বইতে! দাগ থেকে দারুণ কিছু- এটা এই স্কুলের বাচ্চাদের জন্যই মনে হয় সৃষ্টি হয়েছে-  ময়লা কাপড় পড়ে স্কুলে আসতে তাদের সংকোচ নেই, কারণ বাচ্চারা খেলবে, তাতে ময়লা লাগবেই!

রান্না করতে গিয়ে ছোট এই শিশুরা কেবল আনন্দ নয় বরং শিখেছে তাপ কিংবা চুলোর বিপদ! টিফিন বাসা থেকে নয়- বরং পাহাড় থেকে, সমুদ্র থেকে আনছে- অভিযান হচ্ছে, পুষ্টি সম্পর্কেও জানছে!

কৃষক থেকে তারা শিখেছে কীভাবে বীজ বপন করতে হয়! যেখানে শিক্ষা মানেই রোমাঞ্চকর অভিযান- বদ্ধ রুমের মাঝে নয়, বরং বাস্তবতা দিয়ে শিখানো হয় সবকিছু!  এমন সুন্দর একটি বই পড়ে না থাকলে আসলেই মিস করবে!

৯. বাবা যখন ছোট || আলেক্সান্দার রাস্কিন,

অনুবাদ: ননী ভৌমিক ||

আমাদের বাবাদের আমরা খুব ভালোবাসি! তারাই তো আমাদের সুপারহিরো! কিন্তু আমাদের বাবারাও কিন্তু একসময় পিচ্চি ছিলেন! তারাও গুটিগুটি পায়ে স্কুলে যেতেন, স্কুলের পড়া পারতেন না, কিংবা স্কুলে হয়তো যেতেও চাইতেন না! দুষ্টুমি তো করতেন, আবার তাদের বাবাদের কাছে খেতেন বকুনি! তাদের জীবনে কত্তো কিছু ঘটেছিলো!  বাবাদের ছোটবেলার সেই স্মৃতি নিয়েই সুন্দর এই বই! এটিও কিন্তু অনূবাদ করা হয়েছে,,মূল বইটি লিখেছেন রাশিয়ান লেখক আলেক্সান্দার রাস্কিন,  আর বাংলায় মিষ্টি করে অনুবাদ করেছেন- ননী ভৌমিক!

১০.  হ-য-ব-র-ল || সুকুমার রায়

আচ্ছা, তোমরা তো ক্লাসে নামতা -ইয়ে মানে নাম্বার টেইবল পড়ো, তাই না?

আচ্ছা বলোতো সাত দুগুণে (৭x২) কতো?  নিশ্চয় বলবে চৌদ্দ!

উঁহু, সাত দুগুণে চোদ্দের নামে চার, হাতে রইলো পেন্সিল! হাহাহা! 

হযবরল এর অর্থ জানো? মানে এলোমেলো, বিশৃঙ্খল অবস্থা!

এই বইটির গল্পগুলোও তাই! এক্কেবারে দিকবিদিকশুন্য!  তুমি পড়বে, আর কেবল হাসতেই থাকবে, হাসতেই থাকবে!

চমৎকার এই বইটি সুকুমার রায়ের লিখা!

১১. আবোল তাবোল || সুকুমার রায়

বাবুরাম সাপুড়ে

কোথা যাস বাপুরে

আয় বাবা দেখে যা

দুটো সাপ রেখে যা!

কে লিখেছেন বলো তো?  কে আবার, বাংলায় আমাদের একজন ই আছেন, যিনি মজার মজার এরকম ছড়া লিখে গিয়েছেন- তিনি আর কেউ নন- সুকুমার রায়!  বইয়ের নাম দেখেই নিশ্চয়ই বুঝে ফেলেছো- ছড়াগুলো কেমন মজার! তার সাথে পাতায় পাতায় চমৎকার ইলাস্ট্রেশনগুলো চোখ জুড়িয়ে দেয় !-

সহজ আর একদম যেনো বুঝতে কষ্ট না হয়, এমন করেই লিখেছেন, আমাদের জাদুকর সুকুমার রায়!

বি.দ্র. : এক্সট্রা রিকমেন্ডেশন- পাগলা দাশু , হেশোরাম হুঁশিয়ারের ডায়েরি

১২. Her Stories: Adventures of Supergirls || Amit Ashraf, Ishrat Jahan, Namira Hossain, Nisha Ali, Nuhash Humayun, Rafee Shams, Sifat Zaman||

তোমরা ভাবছো কী ব্যাপার!  আজ তো বাংলা বই রিকমেন্ডেশন করার কথা! বইটি ইংরেজিতে কিন্তু লিখেছেন বাংলাদেশেরই ক’জন তরুণ-তরুণী! আর কাদের নিয়ে লিখেছেন জানো? ‘Her Stories’ মানে বাংলার শক্তিশালী কিছু অসাধারণ নারীদের গল্প নিয়ে! তারা সুপারগার্ল বটে! আমি তো মনে করি, আমার আম্মুই একশো!  হ্যাঁ – এই বইয়ে মা’দের জন্যও একটি অধ্যায় আছে!

আর,  প্রতিটি গল্প জুড়ে আছে চমৎকার ছবি!

কেন পড়বে? আমি বলবো, মেয়েরা তো বটেই, ছেলেদের-ও পড়া উচিত!  মেয়েরা কোনো অংশেই ছেলেদের চেয়ে পিছনে নেই, তুমি মেয়ে বলে -তুমি পারবে না- এ কথার কোনো ভিত্তি নেই!

১৩. পিপলী বেগম || হুমায়ূন আহমেদ

বইয়ের ফ্ল্যাপে হুমায়ূন আহমেদ বলেছিলেন এই বইটি সেসব বাবা-মা এর জন্য, যারা ছেলেমেয়েদের গল্প শোনাতে ভালোবাসেন।

আমাদের মতোন পিঁপড়েদের জীবনও আছে! তাদের কঠিন সব নিয়মকানুন!  তাদেরও সমাজ আছে- সেই পিঁপড়ের সমাজের একজন আমাদের পিপলী বেগম-কে ঘিরেই আমাদের গল্প! ভালো লাগবে।

১৪. জাফর ইকবালের শিশু এবং কিশোর সমগ্র:

জাফর স্যারের প্রথম বইটি পড়ি আমি যখন ক্লাস থ্রিতে ছিলাম- সেই থেকে আজ অব্দি – বই মেলায় নূতন বই এলেই, আমি পড়ে ফেলি!

‌একদম ছোটরা পড়ে ফেলতে পারো * বড় হলো ঝিলমিল , *মিতুল ও তার রোবট *,  *ইচ্ছে পূরণ

‌যারা মনে করো- এই যাহ! আমি কি এত্তোই ছোট?  তাহলে তারা পড়ে ফেলো নাট বল্টু/ টুকুনজিল/ স্কুলের নাম পথচারী / কাবিল কোহকাফী/ গ্রামের নাম কাঁকনডুবি/ আমার বন্ধু, রাশেদ / বিজ্ঞানী সফদার আলীর মহা মহা আবিষ্কার /সায়রা সায়েন্টিস্ট / হাত কাটা রবিন/ দুষ্টু ছেলের দল/ দস্যি ক’জন/ দীপু নাম্বার টু/ বিজ্ঞানী অনিক লুম্বা /লিটু বৃত্তান্ত/ লাবু এলো শহরে / আমি তপু / বাচ্চাভয়ংকর কাচ্চা ভয়ংকর/ টি-রেক্সের সন্ধানে/ বৃষ্টির ঠিকানা

এইরে- উনার বইয়ের লিস্ট শেষ হবে না! আজ আপাতত এগুলোর সাজেশন নিয়ে খুশি থাকো! আচ্ছা, কেন পড়বে? জাফর ইকবাল স্যারের বইগুলোর মূলে থাকে- পাড়ার দস্যি ছেলে- যে রোমাঞ্চপ্রিয়, বই পড়ুয়া- যে পড়ার বইয়ের পাশাপাশি অন্য বই ও পড়ে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে সবসময় সরব, নির্ভীক,  অকুতোভয়, বিজ্ঞান নিয়ে চিন্তা করতে পিছুপা হয় না, এবং দেশপ্রেম ও মুক্তিযুদ্ধ! আর কি কিছু বলতে হবে?

১৫. বাবুইবেলা || রীশাম শাহাব তীর্থ

বইটি ২০২০ এর বইমেলায় এসেছে! যারা কমিক্স পড়তে ভালোবাসো, তাদের জন্য! কী মায়ায় জড়ানো,আর ছবিগুলোও যেন কথা বলে!  বইটি  আমি আমাদের বাবা-মা কেও পড়তে বলবো!  নূতন শিশুর আগমনের বাবা-মায়ের সুখানুভূতির সেই অনুভব এত্তো আদুরে ভাবে উপস্থাপন করেছেন লেখক- প্রতিদিন একবার করে হলেও বইয়ের পাতা উল্টোতে মনে চাইবে তোমার।

১৬ . ছোটদের কথা রচনার কথা || শওকত ওসমান

যারা লিখতে ভালোবাসো কিন্তু, লিখতে গিয়ে কলম তো নড়তেই চায় না, তাদের জন্য চমৎকার এই বইটি লিখেছেন শওকত ওসমান। কীভাবে লিখবে ,বিষয় কীভাবে  নির্ধারণ করবে , তার অতি সহজ সাবলীল ব্যাখ্যা করা হয়েছে! আমাদের ভবিষ্যৎ লেখকদের জন্য মাস্ট রীড!

১৭. হলদে পাখির পালক || লীলা মজুমদার

‘কি জানি রুমু, ঝগড়ু বলে সত্যি যে কোথায় শেষ হয়, স্বপ্ন যে কোথায় শুরু হয়ে, বলা মুশকিল।

সম্পূর্ণ ফ্যান্টাসি ঘরানায় লিখা! আমাদের জীবনে এমন একজন বন্ধু তো নিশ্চয়ই আছে যে সবসময় আষাঢ়ে গল্প বলায় পটু – ঝগড়ু তেমনি একজন! তার গল্পেরই এক চরিত্র ভুলো! বইটি পড়া শুরু করলে তোমরাও যে কখন ঝগরুর গল্পের  মাঝে ডুবে যাবে, খেয়াল করতে পারবে না!

১৮. [তিন গোয়েন্দা, কঙ্কাল দ্বীপ, রূপালী মাকড়সা [তিন গোয়েন্দা, ভলিউম ১] || রকিব হাসান

রহস্য উপন্যাস হিসেবে ফেলুদা কিংবা বোমক্যাশ কিংবা কাকাবাবু সত্যি অসাধারণ! কিন্তু আমি বলবো এই বইগুলো আরেকটু উপরে উঠে পড়তে- ক্লাস সেভেন এইট-এ গিয়ে হাতে নিলে এদের আসল মজা বুঝতে পারবে!

আচ্ছা, তিন গোয়েন্দায় আসি! প্রথম ভলিউমের তিনটি গল্প-ই কিন্তু বিদেশী গল্পের ছায়া অবলম্বনে সৃষ্টি- কিন্তু রকিব  হাসান এত্তো সাবলীল ভাবে লিখেছেন- তোমার মনে হবে নাহ, চরিত্র গুলো তারই !

একবার শুরু করে দেখো, টুইস্ট কাকে বলে, রোমাঞ্চ কাকে বলে, অভিযান কাকে বলে, তীক্ষ্ণ বুদ্ধির খেলা কেমন হয় -সবকিছুর স্বাদ আস্বাদন করতে পারবে! প্রথম ভলিউম ই কিন্তু শেষ নয়- এই সিরিজ এখনো চলছে! যদিও আমি ১১০ ভলিউম এর পর আর কোনো ভলিউম পড়ি নি ।

তিন গোয়েন্দা পড়েছে অথচ কিশোর, রবিন, মুসার দলে ভিড়তে চায়নি, এমন কেউ নেই! আর আমি যখন প্রথম পড়েছিলাম, ম্যাপ ঘেটে লস এঞ্জেলস শহরের রকি বীচ তন্ন তন্ন করে খুঁজে ফেলেছি — পাইনি। তোমার কেউ খুঁজে পেলে আমাকে অবশ্য জানাবে!

বি.দ্র. এক্সট্রা রিকমেন্ডেশন- টিনটিন এর অভিযান,   এমিল ও গোয়েন্দা বাহিনী

৯. স্মৃতিচারণ

নাহ! এটি কোনো বইয়ের নাম নয়, কিন্তু এখানে কিছু লেখকদের লিখা তাঁদের শৈশবের স্মৃতি রোমন্থন করা কিছু বইয়ের নাম উল্লেখ করবো!  তাদের ছেলেবেলার কাহিনি পড়ে তোমরাও চলে যেতে পারো- পুরনো সেই দিনে! একেকটা বই যেনো একেকটি হীরের খনি!

* আমার ছেলেবেলা || হুমায়ূন আহমেদ

*আধ ডজন স্কুল || মুহম্মদ জাফর ইকবাল

* ছেলেবেলা || রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

* ফুলের গন্ধে ঘুম আসে না || হুমায়ুন আজাদ

* আমার স্কুল || সেলিনা হোসেন

* ছেলেবেলার দিনগুলি || পূণ্যলতা চক্রবর্তী

* যখন ছোট ছিলাম || সত্যজিৎ রায়

২০. সূর্যের দিন || হুমায়ূন আহমেদ

“অসংখ্য শিশু জানলো না বড় হয়ে ওঠা কাকে বলে!”

কী শিউরে ওঠা , মন খারাপ করা উক্তি। আচ্ছা, এখন কি জানছে, এখন কি তারা ঠিকভাবে বড়ো হয়ে উঠছে? ভাবতে খারাপ লাগে, এখনকার অনেক শিশুই জানে না আমাদের স্বধীনতা দিবস কবে, বিজয় দিবস কবে, দিবসগুলোর তাৎপর্য কী, মহাত্মটা কী -যদিও ঘটা করেই সব স্কুল কলেজে এ দিনগুলো পালিত হয়ে আসছে!
কেন পড়বে?– মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে জানো, মুক্তিযুদ্ধের বইগুলো পড়ো, দেশকে ভালোবাসো- নিজে পড়তে না পারলে ,বড়োদের দিয়ে পড়িয়ে তা শোনো।

আজ, আপাতত এতটুকুতেই ক্ষান্ত দিচ্ছি, এগুলোর মাঝে কোনটা কোনটা তুমি পড়ে ফেলেছো? তোমার কোনগুলো ভালো লেগেছে? পরবর্তী সিরিজে আবার দেখা হবে!

Posted in Uncategorized

||Random Memory||

Little me shared a hair clip with
A girl full of unruly hair
Then we made a pact, we’d be friends forever
But the pact only remained till grade fifth.

Oh, since then so many forever came and went
And left me with questions- ’bout this friendship affair
My infant brain hardly ever came up with answer
There were no ‘net, not even a browser.

How’d I know, tell me-
Uh..a little voice whispers- ’tis so apparent

What? What was it? ‘Am I that different? ‘

Don’t be so blue
You just need to be you!
Be you and you will meet that hue
Tying the knot o’ hair.

Yes, your unruly hair ~

[Pic Source: Google]

A Slob Blog – Colleen Hennessy
Posted in Uncategorized

পরিণীতা|| শরৎ চন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

রেটিং: ★★★/★ [৩.৫]
(অন্তর্নিহিত তাৎপর্যের জন্য: ★★★★)

লেখনীতে সাবলীলতা, সরল কাহিনী বিন্যাস কিংবা অকস্মাৎ মোড় তার লেখার প্রাণ। নামিক ঘটিরাম সমাজের কারুণিক রূপ তাঁর লেখায় ব্যক্ত হয়েছে অবলীলায়। হ্যাঁ, আমি শরৎ চন্দ্রের কথা বলছি। আজ রিভিউ দিচ্ছি তাঁর রচিত “পরিণীতা” র।

পড়শী থেকে পরিচিতি, অতঃপর প্রণয়।নানান বাধা-বিপত্তির নাটকীয়তার পর অবশেষে সুখে-শান্তিতে বসবাস! এই হলো পরিণীতার পরিনতি! রূপকথার কোন গল্প নয়, বাস্তবতা!

উঠন্তী বয়সে আমি “পরিণীতা” পড়েছিলাম। তখন মিষ্টি আবেগের কাছে রূঢ় বাস্তবতা ধারে কাছেও টিকতে পারেনি। শেখর-ললিতার প্রণয় মনে দোলা দিয়েছিলো সে সময়। ললিতার অনায়াসে শেখরের কাছ থেকে টাকা নেওয়াটা মনে হয়েছে মিষ্টি আবেগ- ভালবাসা! বুঝতেও পারিনি ভালোবাসার মোড়কের অন্তর্লীনে থাকা “পরিণীতা” আসলে তৎকালীন সমাজের -ই প্রতিচ্ছবি। চিরাচরিত অর্থডক্স এবং কিছুটা আধুনিকতার ধর্মীয় আস্ফোটন, পুরুষের ক্ষমতা দেখানোর প্রবণতা, আর সেই অবলা -লাজুক-সতী নারীর চিরায়ত রূপ- এই ছিল তখনকার সমাজ। ( এখন? এখন কি এই ছবি একদম নেই হয়ে গিয়েছে?)

ইংরেজিতে বলে না, “damsel in distress”? প্রথম দর্শনে ললিতাকে তা-ই মনে হবে। দোষ দিয়েও লাভ নেই… তার পরিস্থিতি তাকে বাধ্য করেছে নির্ভরশীল হতে।

” অনুমতি না পাইয়া যাইবে এত সাহস তাহার ছিল না”…

উক্তিটি যেমন মন খারাপ করে দেয়, তেমনি মেজাজ-ও। স্বাভাবিক, এসব স্বাভাবিক ছিলো !!! (এখন কি আমরা এ বৃত্ত থেকে বের হতে পেরেছি?)

সংসারের বেড়াজালে আবদ্ধ সে মেয়েটিকে আবার অল্প বয়সেই পরিপক্ক হয়ে উঠতে হয়! কিন্তু ছেলেদের বেলায় তা না হলেও চলবে। শেখরকই দেখো না। এক অপরিপক্ক, ভীরু ও কাপুরুষ। নারী মাত্রই সম্পত্তি নয়, সম্পদ -যে বলা মাত্র তাকে হস্তান্তর বা ছুঁড়ে ফেলা যায় না- কথাটি “শিক্ষিত -ভদ্র” শেখরের বোধহয় জানা ছিলো না। এ কথা বলছি না, সে ললিতাকে ভালবাসেনি! বেসেছে, কিন্তু… হ্যাঁ, এর মাঝেও কিন্তু আছে! ভালবাসার মাঝে কিন্তু আসাটাই কিন্তু খটমটে, তাই না?

অন্যান্য চরিত্রগুলোর মাঝে আমার গিরীন-কে বেশ ভালো লেগেছে…কেন জানি, ভালো লাগা চরিত্রগুলো প্রায় বেচারা উপাধি পায়! গিরীন বাবু-ও ওই বেচারাদের দলে।

পরিণীতা অর্থ হলো বিবাহিত। ললিতা জানত সে শেখরের পরিণীতা! এর জন্য কেবল ওই একটি ফুলের মালা কিংবা মৃদু ভালোবাসার স্পর্শই যথেষ্ট! শেখর যদি আজীবন তাকে গ্রহণ না করতো তবে এভাবেই সে চিরকাল কাটিয়ে দিত… এ কি ভালবাসার বহিঃপ্রকাশ নাকি নেহাৎ অন্ধবিশ্বাস ??

বইটি পড়ে মনে হবে ললিতা সবার আরাধ্য। খুব চিন্তা সবার এই মেয়েটির জন্য। কিন্তু একটিবারও তো কেউ মেয়েটিকে তার অভিলাষ জিজ্ঞেস করেনি। প্রয়োজনবোধ হয়নি। ললিতাও কোন রা করে নি। কেননা সেটাই স্বাভাবিক। যদ্যপি, ললিতা তার মননে, তার ভালোবাসায়, তার বিশ্বাসে অটল ছিল!

আমার যা মনে হয়েছে, শরৎ চন্দ্র এখানে আদর্শ নারীর ভালবাসার উপর দৃষ্টিপাত করেননি, বরং অঙ্গুলী নির্দেশ করেছেন এর উপর – যে মেয়েরা কোনকালেই অবলা ছিলো না, কেবল প্রকৃত শিক্ষা আর সুযোগের অপ্রাতুলতা আর তথাকথিত সমাজের অধীনতা তাকে অবর করে রেখেছে! এছাড়া সামাজিক শ্রেণিবৈষম্যের কথা আর নাই বা বললাম। আর রয়েছে মেয়েদের লাজুকতা! মেয়েরা জানো তো, লাজুকতা ভদ্রতার অংশ- তার মানে এই নয় যে, এই অংশ তোমার দুর্বলতা!

যাহোক, রোমান্টিক নভেলে এসব বাস্তবতা অরব! রোমান্সের জন্য বলো অথবা সে প্রাক ১৯০০ হায়নের সমাজ কেমন ছিলো বলো কিংবা লেখনীর প্রাঞ্জলতার জন্য বলো – পড়ে ফেলো পরিণীতা!

শেষ কথা হলো, আজ নারী মুক্ত হোক বা না হোক, তারা সবাই জানে কীভাবে মুক্ত হতে হয়, যখন তোমার জানার পথ উন্মুক্ত, তখন তোমাকে গাইতে হবে না,

“ভেঙে মোর ঘরের চাবি নিয়ে যাবি কে আমারে…”♪♪

বরং হেড়ে গলায় ডাক ছাড়ো,

“যদি কেউ কথা না কয়, 
ওরে… ওরে ও অভাগা,
যদি সবাই থাকে মুখ ফিরায়ে সবাই করে ভয়—
তবে পরান খুলে
ও তুই মুখ ফুটে তোর মনের কথা 
একলা বলো রে॥”♪♪

হ্যাপি রিডিং~♥

Posted in Uncategorized


বৃষ্টির ঠিকানা || মুহম্মদ জাফর ইকবাল

জাফর ইকবাল স্যারের বইগুলোতে দেশ -দেশ আর মুক্তিযুদ্ধের ব্যাপারটা থাকবেই থাকবে। বেশ গর্ব করার মতো, তাই না? “বৃষ্টির ঠিকানা” বইটি এর ব্যতিক্রম নয় ঠিকই কিন্তু অন্য রকম এক অনুভূতি হবে তোমাদের বইটি পড়ে!

কতই না মমতা মাখানো, প্রথম যেদিন পড়েছিলাম সেদিনও আমি কেঁদেকেটে একাকার! আজও কেঁদেছি বটে, কিন্তু আরও একটি কারণে! যে আমার থেকে বইটি ধার নিয়েছিলো…সে আর কোনোদিন ধরা দেয়নি! সেও গায়েব…আমার বই-ও গায়েব। পাওয়ার আশায় আমারও আর কেনা হয়ে ওঠেনি, আমি কী খারাপ! 😥

যাহোক, পুরনো কাসুন্দি বাদ। বইয়ের কথায় আসি। মূলতঃ বইটি তেরো বছরের কিশোরী টুম্পা এবং তার স্কিটজফ্রেনিয়ায় আক্রান্ত বাবার মধুর এক গল্প।

টুম্পা বেড়ে উঠেছে আমেরিকায় তার মার সাথে। কিশোরী মেয়েটি ঠিকই বুঝতে পারে তার বিপিতার অনীহার দৃষ্টি। এরকম বাবা (বাবা নয়…লোক বলি) বাস্তবে একদম যে নেই তা নয়…কিন্তু এরা ভীষণ ভীরু! ভীরু বলেই নিজ পরিবার কিংবা দেশের বিরুদ্ধে যেতে এক সেকেন্ড-ও কার্পণ্য করেনা!

টুম্পা, এই এতটুকুন একটা মেয়ে, বাংলাদেশকে নিয়ে কতটা চিন্তা করলে শুধুমাত্র একটা গান থেকে যশোর রোডের সেই হৃদয়বিদারক করুণ দৃশ্য রঙ তুলির আঁচড়ে এঁকে ফেলতে পারে! যদিও ছবি আঁকা তার রক্তে! দেশ আমরা সবাই ভালোবাসি সত্যি..কিন্তু ক’জনইবা চিন্তা করি, কেন এত সুন্দর এ দেশের সবকিছু? কেন এত আত্মত্যাগ এ দেশের জন্য। টুম্পা কিন্তু ভেবেছে। তো সেই দেশ যার মননে, সে তো আর আমেরিকায় পড়ে থাকতে পারে না..তোমরা উইনিং ব্যান্ড-এর ওই গানটা শুনেছ? ঐ যে ওইটা, “প্রিয় ঠিকানা”?

‘শহর জড়ানো বৃষ্টির চাদরে
তবু ব্যস্ত মানুষ কত দিকে যায়
মনের খাতায় আজ অনেক স্মৃতি
কেমন ছিলাম আমি আজ কোথায়../পরিচিত মুখেরা প্রতিটি হৃদয়
বারবার ডাকে সেই প্রিয় ঠিকানা”♪♪♪

টুম্পার কাছে প্রিয় সেই ঠিকানা নিশ্চয়ই দূরপরদেশ আমেরিকা নয়। বৃষ্টির আকর্ষণে কিংবা দেশের টানে টুম্পা তো চলে এলো বাংলাদেশে। এরপরই কিন্তু কাহিনীর মোড় ঘুরে গেলো। কেন? কী হলো…? আগেই বলেছি বইটি এক বাবা-মেয়ের আখ্যান। তাই, কিছুটা আঁচ হয়তো করতে পারছো। কিন্তু আমি যদি বলতে থাকি এ কাহিনী জীবনেও শেষ হবে না 😅

সেদিকে আর গেলাম না তাই। বরঞ্চ বলি, কেন আমার বইটি এত্ত প্রিয়। প্রথমত, আমি বৃষ্টি খুব পছন্দ করি। বৃষ্টি এলো আর আমি মনমরা হয়ে চুপটি করে থাকব? -কক্ষনো না! Rain is like my jubilation! জাফর স্যার তো বলেই দিয়েছেন, তারাই বৃষ্টিতে ভিজতে ভালোবাসে যাদের
“…মনে অনেক আনন্দ। ” অন্তত আমার জন্য তো অবশ্যই। এই বইটিতে স্যার কী চমৎকার ভাবেই না বৃষ্টির সৌন্দর্যকে ফুটিয়ে তুলেছেন…” এতো সুন্দর তাকে কী ভাল না বেসে পারা যায়?”

দ্বিতীয় কারণ, ক্রিস্টিনা হেনরিকসন, অসাধারণ একজন শিক্ষিকা! শিক্ষকতা, যা আমার বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ! এমন একজন টিচার হলে আর কী কিছু লাগে বলো?

তৃতীয়ত, এই বইটি আমাকে স্বপ্ন দেখতে শিখিয়েছে, ভালোবাসতে শিখিয়েছে, ভাবতে শিখিয়েছে…শিখিয়েছে যে কোনো কিছুকে অন্য ভাবে দেখতে। এখানে বাংলাদেশের এমন এক রূপ তুলে ধরা হয়েছে, পড়ে তুমি বলবে, আমাদের অনেক ভুলত্রুটি আছে ঠিকই তবুও আমরা আর পিছিয়ে নেই এবং বিশ্বের কাছেও তা আর অজানা নয়।

টুম্পার মতো আমিও ভাবতাম আমার দেশের নাম ঠিক মতো কেন উচ্চারণ করতে পারেনা যারা অন্য ভাষায় কথা বলে! যারা ধ্বনিবিজ্ঞান/phonetics বিষয়ে অবগত আছো, তারা জানো, ইংরেজি ধ্বনিতে কিছু কিছু বাংলা ধ্বনি নেই আর গুগল কিংবা ইংরেজি অভিধানে বাংলাদেশ নামটি আছেই এভাবে 
/ˌbæŋɡləˈdɛʃ/ ( ব্যাংলাডেশ)। ওরা তো বাংলা পড়তে পারে না, phonetics দেখে ওরা এভাবেই উচ্চারণ করতে বাধ্য হয়। 
[ বি.দ্র. গুগলে এখন / ˌbɑːŋ-/ (বাং) সংযুক্ত হয়েছে যদিও কিন্তু দ/ড এর কোনো পরিবর্তন ঘটেনি ]

পরিশেষে এই বইটি আমাকে একটি অসাধারণ গান আর একটি অসাধারণ কবিতার সাথে পরিচয় করিয়ে দিয়েছে। মৌসুমি ভৌমিকের “যশোর রোড ” আর 
Allen Ginsberg’s “September on Jessore Road”! গান এবং কবিতা দুটি-ই অনেক বড়। এত্ত মন খারাপ করিয়ে দেয়.. গানের কিছু অংশ উল্লেখ করছি.. প্লিজ শুনে দেখো~

“শত শত চোখ আকাশটা দেখে
শত শত শত মানুষের দল
যশোর রোডের দু-ধারে বসত
বাঁশের ছাউনি, কাদামাটি জল।
কাদামাটি মাখা মানুষের দল
গাদাগাদি হয়ে আকাশটা দেখে
আকাশে বসত মরা ঈশ্বর
নালিশ জানাবে ওরা বল কাকে?
ঘরহীন ওরা ঘুম নেই চোখে
যুদ্ধে ছিন্ন ঘর-বাড়ী-দেশ
মাথার ভিতর বোমারু বিমান
এই কালো রাত কবে হবে শেষ।
শত শত মুখ হায় একাত্তুর
যশোর রোড যে কত কথা বলে♪”

মন খারাপ করিয়ে দিলাম, তাই না? কিন্তু “বৃষ্টির ঠিকানা” পড়ে মন ভালো হতে বাধ্য! তাই দেরি করো না, ঠিক আছে? পড়ে ফেলো শীঘ্রই।

Happy Reading~ ❤

Posted in Uncategorized

ওজের জাদুকর | লিম্যান ফ্র‍্যান্ক বোম( অনুবাদ করেছেন : শহীদ আখন্দ)

Home is where my heart is and my brain agrees courageously!! .

আম্মু বলে, বুড়ো বয়সে পিচ্চিদের বই!…ছোটদের গিফট করে দাও! আমি আম্মুকে বলি, আমার বুড়ো হতে কিন্তু একদম কোন সমস্যা নেই, কিন্তু “ভেল্কিরাম ভূতের ছানা” র মতো মনটি থাকা চাই কচি কচি! হিহি! তো এই যখন খায়েস..বই মেলায় দেখা মাত্র নিয়ে নিয়েছি “ওজের জাদুকর”- কচি দের বইখানা! .

ওজের জাদুকর-কে তো সবাই চেন! আমার না ওজ কে তিন গোয়েন্দার “ছিনতাই “-এর কারলো ক্যাসাডোর মতো মনে হয়, ক্যাসাডো তো লিচু-চোর ছিলো না তবু ” পড়বি পড় মালির (জিভারোদের) ঘাড়েই..” পড়েছিলো আর তাতেই হয়ে গেলো “কালুম-কালুম”- পবন দেবতা! আর বুড়ো-টেকো মাথার ওজ বেচারা হয়ে গেলো বিরাট জাদুকর! কী আর করা, ক্যাসাডো কে বাঁচালো তিন গোয়েন্দার দল..আর ওজ রক্ষে পেলো ডরোথির দলের কল্যাণে! 

ওজের অনুবাদ পূর্বেও পড়েছিলাম… অনীশ দাস অপুর! আজ আবার পড়লাম। প্রথমা প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত বইটির অনুবাদ করেছেন শহীদ আখন্দ। পড়ে বেশ মজা পেয়েছি আমি! পিচ্চিদের বই বলে কথা! আর চমৎকার প্রচ্ছদ তো দেখতেই পারছো! সংগ্রহে থাকলো ~♥

Posted in Uncategorized

শুন্য|| হুমায়ূন আহমেদ

কোথায় যেন পড়েছিলাম,

“শূন্য কি! সে কি? শুরু না শেষ!

শূন্য দিয়েই শুরু করি
শূন্য দিয়েই সংখ্যা গোনা ;
শূন্যে গিয়ে মেলায় শেষে
জীবন শেষের সব যাতনা ।।”

স্কুল জীবনে অংক আমাকে বেশ জ্বালিয়েছে। না আমি একদম আজবোজ-ও ছিলাম না, কিন্তু তবুও গণিত ছিল বিষপিঁপড়ে! ক্লাস নাইন-টেনে আমাদের অংক গুরু ছিলেন শ্রদ্ধেয় ভুঁইয়া স্যার। তো একদিন স্যার প্রাইম সংখ্যা বোঝাচ্ছিলেন। বোঝাতে গিয়েই এলো ফিবোনাচ্চি সিরিজের কথা। স্যার-ই আমাদের “শূন্য ” বইটি পড়ার জন্য পরামর্শ দিলেন। স্যার বলেছে বলে কথা, আমি খুবই গুরুত্ব দিয়েছিলাম। কার থেকে নিয়েছি মনে নেই, কিন্তু এখনো মনে আছে, পড়া পরবর্তী অদ্ভুত সেই অনুভূতি! 

আমার পড়া এটাই ছিলো প্রথম হুমায়ূন স্যারের সাই-ফাই। কিন্তু আমি একে একদম সাই-ফাই জানরা তেও ফেলতে পারছি না। তবে আমি বলবো “শূন্য” হলো সাই-ফাই ফ্যান্টাসি! শুরুতেই বলেছি অদ্ভুত অনুভূতির ব্যাপারটা। বাস্তবতা কি সত্যি বাস্তব? নাকি কল্পনার সবকিছুই মেকি? নাকি আমাদের কল্পনাগুলো আমাদের মনের গহীনে লুক্কায়িত থাকা একান্ত অভিলাষ? এ বইটিতে লেখক যুক্তি দিয়ে কল্পনাকে পরাস্ত করতে চেয়েছেন। কিন্তু তিনি নিজেই “ভূমিকা ” অংশে উল্লেখ করেছেন,

” আমি শ্রদ্ধা করি — যুক্তি, কিন্তু ভালবাসি– কল্পনা। আর এটা তো জাগতিক সত্য ভালবাসার এবং শ্রদ্ধার সঙ্গে ক্ষমতার দ্বন্দে ভালবাসাই জয়ী হয়।” .

দ্বিতীয় জগতের অস্তিত্ব থাকুক বা না থাকুক, “শূন্য ” স্যারের অন্যতম অনবদ্য এক রচনা। শুন্য সংখ্যাটাই কেমন যেন, রহস্যময়। যার আক্ষরিক অর্থই হলো নবডঙ্কা / nothingness, তথাপি এর মূল্য “কিছু নেই ” বললেও ভুল হবে। লেখকের এই উক্তিটিই দেখোনা,

” আপনি লিখতে পারেননা–
৩ x০=০ বা ৪x০=০
একই সঙ্গে আপনি বলছেন শূন্য একটি প্রতীক, আবার সঙ্গে সঙ্গে শূন্যকে গাণিতিক প্রক্রিয়ায় কাজে লাগাচ্ছেন, তা কি করে হয়?”

তাই তো। স্যার মাত্রই আমাদের ভাবুক করে তুলেন। বইটিতে ভালবাসার অন্য এক রূপ দেখেছিলাম আমি…অজানা-অদৃশ্য বস্তুর প্রতি ভালোবাসা, কিংবা মানুষের প্রতি মানুষের প্রচণ্ড এক মমতা! আর উপন্যাসের শেষ অংশটুকু নিয়ে কী আর বলবো…কীভাবে লিখতেন তিনি? আমার সবচেয়ে প্রিয় অংশটুকু -যা আমাকে কাঁদিয়েছে ঠিকই, কিন্তু স্বপ্ন দেখতেও ভোলায়নি। 

” তিনি দেখছেন অভিমানে রূপার চোখ ভিজে উঠতে শুরু করেছে। তখন তিনি বই ফেলে দিয়ে বললেন– চল যাই ভিজি। রূপা আনন্দে হেসে ফেলল।…ঝুম বৃষ্টি পড়ছে। বৃষ্টির শব্দের সঙ্গে গলা মিলিয়ে রূপা হাসছে খিলখিল করে… আহ কি সুন্দর স্মৃতি — কি মধুর স্মৃতি।… এক একবার বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে। সেই আলোয় দেখছেন জলভেজা আশ্চর্য মায়াবী এক মুখ। “

এত্ত প্রিয় এই বইটি। ধন্যবাদ স্যার, ধন্যবাদ আপনাকে। :’)

সব তারা দিয়ে দিলাম। ❤

Posted in Uncategorized

ঠাকুরমা’র ঝুলি

Image may contain: text

“তারা ঝিকিমিকি পথ ঘুমের দেশের, 
এইখানে খেলাঘর পাতা আমাদের। 
ছোট বোন পারুলের হাতে রেখে হাত, 
সাতভাই চম্পার কেটে যায় রাত। 
কখনও ঘোড়ায় চড়ে হাতে নিয়ে তীর, 
ঘুরে আসি সেই দেশ চম্পাবতীর। 
এইখানে আমাদের মানা কিছু নাই, 
নিজেদের খুশি মত কাহিনী বানাই।”

কবি তো পুরো সারমর্ম-ই বলে দিলেন। রূপকথা মানেই আমাদের খেলাঘর, আমাদের রাজ্য। আর “ঠাকুরমা’র ঝুলি” আমাদের সেই খেলাঘরের কুঠি! কুঠিতে বসে আম্মু-নানুমণি কত্ত গল্প বলেছে তার কি কোন ইয়ত্তা আছে? আহ! নস্টালজিয়া 😊
To me, fairy tales belong to that world where dreams and wishes come true! Hence, this book means a lot.. With it there’s so many precious memories entwined…entangled, forever ~ 😘
রবি-ঠাকুরের ইচ্ছাপূরণ দেবী লাগবে না, কেবল ঝুলিতে একবার ঢুঁ মেরে এসো, দেখবে ইচ্ছাগুলো সব পূরণ হয়ে গিয়েছে। Happy reading~